মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭

মশিআপুউ

প্রকল্পের নাম ও পরিচিতি : মহিলা শিক্ষা, আয় ও পুষ্টি উন্নয়ন (মশিআপুউ) প্রকল্প
 

ক) উদ্যোগী মন্ত্রণালয়    : পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় 
খ)  বাস্তবায়নকারী সংস্থা  :
বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমী (বার্ড)
কোটবাড়ী, কুমিল্লা।
গ) প্রকল্পের বাস্তবায়ন /মেয়াদ কাল                                              : জুলাই, ২০০৪ - জুন, ২০১৮
 ঘ)  প্রকল্পের বাজেট       : ২০.৬০ লক্ষ টাকা (জুলাই ২০১৪-২০১৮ জুন পর্যন্ত) 
(মহাপরিচালক, বার্ড কর্তৃক রাজস্ব বাজেটভুক্ত হিসাবে অনুমোদিত)
ঙ)  প্রকল্প পরিচালকের নাম :
নাছিমা আক্তার, যুগ্ম-পরিচালক (পল্লী সমাজতত্ত্ব)
ফরিদা ইয়াসমিন, সহকারী পরিচালক (পল্লী প্রশাসন)

২।  প্রকল্পের পটভূমি

        বার্ডের প্রতিষ্ঠা লগ্নের পর থেকেই মহিলাদের উন্নয়নে বিভিন্ন প্রায়োগিক গবেষণা পরিচালনা করে আসছে । বার্ড ১৯৬২ সনে গ্রামীণ নারীকে গৃহবন্দী অবস্থা থেকে বের করে আনা ও তাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার পরিবর্তন ও উন্নয়ন কর্মকান্ডে সম্পৃক্তকরণের লক্ষ্যে, মহিলা শিক্ষা ও গৃহ উন্নয়ন নামে একটি প্রকল্প গ্রহণ করে । উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় মহিলাদের বিশেষ করে দরিদ্র্য মহিলাদের সক্রিয় অংশগ্রহণের সূযোগ সৃষ্টি এবং মা ও শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি উন্নয়নসহ মৌলিক অধিকারসমূহ বাস্তবায়নের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে ১৯৯৩ সালের জানুয়ারী মাস হতে প্রকল্প কার্যক্রম পরিমার্জিত আকারে সম্প্রসারন পূর্বক বর্তমানে কুমিল্লা সদর,সদর দক্ষিণ, বরুড়া ও বুড়িচং উপজেলায় ২৪টি গ্রামে পরীক্ষামূলকভাবে মহিলা শিক্ষা, আয় ও পুষ্টি উন্নয়ন (মশিআপুউ-Women’s Education, Income and Nutrition Improvement Project (WEINIP)  প্রকল্প পরিচালনা করছে ।

৩।    প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ও সংক্ষিপ্ত বর্ণনা :
ক)    প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো পল্লী এলাকার জনগোষ্ঠির মহিলা বিশেষতঃ সুবিধা বঞ্চিত ও দারিদ্রপীড়িত  পরিবারের নারীদের উন্নয়নের মূল-স্রোতধারায় সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি  এবং  জীবন দক্ষতা উন্নয়নপূর্বক দারিদ্র বিমোচনের লক্ষে  আয়, উৎপাদন বৃদ্ধি ও খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি মানবাধিকার ও আইনগত সুরক্ষা, মা ও শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি উন্নয়নসহ মৌলিক অধিকারসমূহ সমন্বিতভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে তাদের জীবনের সার্বিক মানোন্নয়ন ও ক্ষমতায়ন। প্রকল্পের সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যগুলো নিম্নরম্নপঃ 
খ)     এই প্রকল্পের সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যাবলী হলোঃ
(ক)    নারীদের সাংগঠনিক ব্যবস্থাপনাগত দক্ষতা, ক্ষমতায়ন ও নেতৃত্বের উন্নয়ন সাধনে লাগসই প্রশিক্ষণ প্রদান; 
(খ)    নারীদের আত্মনির্ভশীলতা অর্জনে পূঁজি গঠন, উদ্যোক্তা সৃজন, আয় উৎপাদন ক্ষমতাবৃদ্ধিতে ও মার্কেটলিংকেজ স্থাপনে সহায়তা প্রদান;

(গ)    গৃহ, পরিবার এবং কম্যুনিটি পর্যায়ে জেন্ডার বৈষম্য ও নির্যাতন প্রতিরোধ,অধিকার সুপ্রতিষ্ঠা, নিরাপদ মাতৃত্ব লাভ,
             শিক্ষা,স্বাস্থ্যপুষ্টি ও পরিবেশ উন্নয়ন ইত্যাদি বিষয়ক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সার্বিক সহায়তা প্রদান; এবং 
  
(ঘ)      সকল সরকারী ও বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থাসমূহের পরিষেবা প্রাপ্তিতে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার , তথ্যায়ন ও কার্যকর নেটওয়ার্ক স্থাপন।

৪।    প্রকল্পের এলাকা ও বাজেট
 বার্ডের রাজস্বভুক্ত মহিলা শিক্ষা, আয় ও পুষ্টি উন্নয়ন (মশিআপুউ) প্রকল্পটি পরীক্ষামূলকভাবে জুলাই ২০১৪- জুন ২০১৮ মেয়াদে মোট ২০.৬০ লক্ষ টাকার বাজেট বরাদ্দ দিয়ে প্রকল্পটি পরিচালনা করার কাজ চলমান রয়েছে।  প্রকল্পটি কুমিল্লা জেলার কুমিল্লা সদর, সদর দক্ষিণ, বুড়িচং ও বরুড়া উপজেলার ১৯৯৯-জুন ২০০৪ পর্যন্ত ১২টি গ্রামে এবং বর্তমানে ২৪টি গ্রামে পূর্ববর্তী  প্রকল্প কার্যক্রম পরিমার্জিত আকারে সম্প্রসারন এবং আরও বেগবান করার কাজ চলমান রয়েছে।


৫।    প্রকল্পের মূল কার্যক্রমসমূহ
           এই প্রকল্পের কম্পোনেন্ট গুলোর মধ্যে রয়েছে মহিলা উন্নয়ন, আয় বৃদ্ধি, শিক্ষা উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্য ও পুষ্টি উন্নয়ন। এ সংক্রামত সমস্যাগুলো সমাধানের লক্ষ্য হলো  গ্রামীণ নারী সমাজকে সংগঠিত করে তাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং আইনগত সুরক্ষা ও অধিকার অর্জন করা সম্ভব এ ধারণা থেকেই এ প্রকল্পের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে । এই প্রকল্পের মাধ্যমে নারী মানব সম্পদ উন্নয়নের ধারণাটি সবচেয়ে গুরুত্ব দেয়া হয় । মানব সম্পদ উন্নয়নের পরিমাপন যেমনঃ আয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি এবং আয়ুস্কাল ইত্যাদি সংশ্লিষ্ট  উপাদনগুলোর সংগে সংগতি রেখে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য হিসাবে মহিলাদের বিভিন্ন দলে (আনুষ্ঠানিক/অনানুষ্ঠানিক) সংগঠিত করে তাদের নেতৃত্বের বিকাশ সাধনের জন্য প্রশিক্ষণ ও শিক্ষার মাধ্যমে তাদের জ্ঞান, দক্ষতা বৃদ্ধি  এবং তাদের নিজস্ব পুঁজি গঠন এবং উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধিমূলক কাজে প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ প্রদানপূর্বক যথাযথ প্রযুক্তি স্থানান্তরের ব্যবস্থা নেয়ার উপর গুরুত্ব দেয়া হয় । মহিলা সংগঠনের আওতায় গ্রামের মহিলাদের  টিপ সহি দেয়ার প্রচলন বন্ধ করে অক্ষর জ্ঞান, বর্ণ পরিচয়, দৈনন্দিন হিসাব নিকাশ ইত্যাদি শেখানোর মাধ্যমে মহিলাদের অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা এবং ব্যবহারিক শিক্ষার হার বৃদ্ধি এবং ছাত্রছাত্রীদের বিশেষ করে মেয়েদের স্কুলে অন্তর্ভুক্তি এবং অবস্থানের হার বৃদ্ধিপূর্বক শিক্ষা বিস্তার কার্যক্রম জোরদার করা হয়। তাছাড়া গ্রামের মহিলাদের নিয়ে বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্মেলন, বাস্তবায়ন ও মূল্যায়ন ইত্যাদি কার্যক্রমের মাধ্যমে আয় উৎপাদনবৃদ্ধি, স্বাস্থ্যপুষ্টি, প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা এবং প্রজনন স্বাস্থ্য ও সামাজিক অধিকার ও পরিবেশ উন্নয়ন বিষয়ে মহিলাদের প্রশিক্ষিত ও সচেতন করে তোলা এবং স্বাসহ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সার্ভিসের সাথে সম্পর্ক সহাপনের ব্যবসহা নেয়ার উপর গুরূত্ব দেয়া হয় ।
৬।    
 প্রকল্পের বাস্তবায়ন পদ্ধতি ও কৌশল

    প্রকল্প এলাকা নির্ধারণ;
    নারীদের সংগঠিত করে দল গঠন ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো নির্ণয়;
    সাপ্তাহিক সভায় শেয়ার,সঞ্চয় ও কর্জ জমাদান;
    পাক্ষিক প্রশিক্ষণ ও বিশেষ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন;
    সাপ্তাহিক সভায় আয় বৃদ্ধি শিক্ষা, স্বাস্থ্য পুষ্টি ও পরিবেশ উন্নয়ন ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা; 
    ঋণ পরিকল্পনা প্রকল্প কর্মকর্তার নিকট জমাদান;
    ঋণ পরিকল্পনা পর্যালোচনা ও সহজ শর্তে ঋণ প্রদান;
    আত্ম কর্মসংস্থান ও আয়-উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধিমূলক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ;
    পণ্য প্রদর্শনী, বিক্রয় ও সমবায় মেলায় অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করা ;
    দাই কর্মীদের প্রশিক্ষিত করে প্রজনন স্বাস্থ্য ও নিরাপদ মাতৃত্ব বিষয়ক প্রতিকারমূলক ও রেফারেল সার্ভিসের ব্যবস্থা করা;
    গ্রাম কল্যান কর্মীদের দিয়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও উন্নত পরিবেশ গঠন ইত্যাদি কার্যক্রম বাসত্মবায়ন;
    আইন অধিকার ও নির্যাতন প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টি;
    বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনা (গ্রাম ভিত্তিক কার্যক্রমের জন্য বার্ষিক কার্যক্রম পরিকল্পনা সম্মেলন, বাসত্মবায়ন ও মূল্যায়ন ইত্যাদি)।

৭।  প্রকল্পের প্রভাব ও গুরুত্ব

 ক) মশিআপুউ প্রকল্পের মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো গ্রামের  দরিদ্র নারী । এলক্ষ্যে মহিলাদের নেতৃত্ব ও ব্যবস্থাপনায় ২৪টি গ্রাম সংগঠন সৃষ্টির মাধ্যমে,আত্নকর্মসংস্থান লাভ, ১০৬৭জন সদস্য ও ৮৯২টি পরিবার অমর্তভূক্তি পূঁজি গঠন,আয়বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রম উন্নয়ন,শিক্ষা, সেনিটেশন, প্রশিক্ষিত দাই সার্ভিস প্রদান, গর্ভবতী মা ও নবজাতকের যত্ন, প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা ও স্বাস্থ্য সম্মত পরিবেশ গঠন, সামাজিক অবস্থান ইত্যাদি কার্যক্রমের মাধ্যমে  ইতিবাচক পরিবর্তন  হয়েছে এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে সেবা প্রদান ও উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। প্রকল্পভূক্ত গ্রাম ২৪টি সংগঠনে ১৩৮জন নারী ব্যবস্থাপনা কমিটিভূক্ত হয়ে ও ৪৮ জন নারী জেন্ডার সমতা, নারী ও শিশু অধিকারকর্মী (GCRA) দৃঢ়সংকল্পবদ্ধতা সহকারে সাংগঠনিক নেতৃত্ব প্রদান ও হিসাব ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এবং সাপ্তাহিক সভা করে পুঁজিগঠন ও অধিকার সুরক্ষাপূর্বক আর্থসামাজিক উন্নয়ন ঘটাতে পারছে । তাছাড়া প্রকল্পের প্রভাবে নারীদের আত্ম বিশ্বাস ও সার্বিক  দক্ষতা  বৃদ্ধির  মাধ্যমে  স্থানীয়  পর্যায়ে নেতৃত্ব ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে স্ব-চেষ্টা ও নিজস্ব  উদ্যোগে কর্ম লাভে এবং বিভিন্ন আত্ম-কর্মসংস্থানমূলক কর্মকান্ডে যুক্ত হওয়া এবং নিজস্ব সম্পদ ও সামর্থ্য বৃদ্ধি এবং নিয়ন্ত্রন ও সিদ্ধামত প্রয়োগে সক্ষম হচ্ছে। এ কর্মকৌশলকে আগ্রহী সংশ্লি¬ষ্ট শক্তি বা প্রতিষ্ঠান কাজে লাগিয়ে দেশের সামগ্রিক উনণয়নে নতুন মাত্রা সংযোজন করতে সক্ষম হবে ।
পরিকল্পনা ও করণীয় :  জুলাই ২০১৮ -জুন ২০২২ অর্থ বছরের জন্য ডিপিপি চুড়ান্তকরণের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। 

 


Share with :
Facebook Facebook